পর্তুগালে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন দাবদাহের কবলে পড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৬৮০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। পর্তুগালের জাতীয় স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যে এই উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গ্রীষ্মে তিনটি ভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেয়েছে:
১৬ জুন: প্রথম পর্যায়ে ৬২ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যা প্রত্যাশিত হারের চেয়ে প্রায় ২২.৪% বেশি। ওই সময় দেশটিতে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাব ছিল।
২ থেকে ৮ জুলাই: এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ পর্যায়। দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র দাবদাহের কারণে এই সময়ে প্রায় ৫৫৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়, যা প্রত্যাশিত মৃত্যুর তুলনায় ২৯% বেশি।
২৩ জুলাই: তৃতীয় পর্যায়ে ৬৩ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু লক্ষ্য করা গেছে (২৩.৫% বেশি)। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যানটি মূলত একদিনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা, তাই পরবর্তীতে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী বয়স্ক ব্যক্তি। মৃত্যুর কারণ হিসেবে মূলত সংবহনতন্ত্র (, শ্বাসতন্ত্র এবং নিওপ্লাস্টিক বা টিউমারজনিত জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, দাবদাহ সরাসরি মৃত্যুর কারণ হিসেবে কম নথিবদ্ধ হলেও, তীব্র গরমের কারণে দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর অবনতি এবং পানিশূন্যতা বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইনসা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, এই তথ্যগুলো পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করে সংগৃহীত। স্বাভাবিক সময়ের প্রত্যাশিত মৃত্যুর সংখ্যার সাথে বর্তমান সময়ের মৃত্যুর তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ‘অতিরিক্ত মৃত্যু’ হিসাব করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপজুড়ে দাবদাহের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বয়স্ক নাগরিক, শিশু এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের তীব্র গরমের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।