ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করার একদিনের মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভ, নিপ্রোপেত্রোভস্ক, পলতাভা ও লভিভসহ একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয়েছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে। সেখানে রাশিয়ার ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দুই শিশুসহ ৬ জন নিহত এবং অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজধানী কিয়েভে একজন, নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে ৬ জন এবং পলতাভায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পোল্যান্ড সীমান্তসংলগ্ন লভিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৬ জন। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আকাশ নিরাপত্তা জোরদারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে পোল্যান্ড।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভ থেকে লভিভ পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ওডেসা বন্দরের কাছে অস্ত্র বহনকারী তিনটি মালবাহী জাহাজেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জনগণকে সুরক্ষা দিতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে দ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের পর থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে একই দিনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার পেনজা শহরে শীর্ষ অনলাইন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে আগুন লাগে। জেলেনস্কি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রুশ সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ তুললেও মস্কো সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা