ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নতুন করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সর্বশেষ হামলায় একটি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত বহু তাঁবুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পৃথক হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা সিটির একটি এলাকায় হামলার আগে সেখানকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এরপর শুরু হয় ব্যাপক বিমান হামলা। হামলায় এলাকার একটি মসজিদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। একই সঙ্গে আশপাশে বাস্তুচ্যুত মানুষের বসবাসের জন্য স্থাপন করা কয়েক ডজন তাঁবুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, এসব তাঁবুতে যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি হারানো বহু পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। হামলার সময় নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
এদিকে, গাজার মধ্যাঞ্চলের নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরেও পৃথক একটি হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত একজন নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজাজুড়ে চলমান সংঘাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন আরও বাড়ছে। অব্যাহত হামলায় বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু সেসব আশ্রয়স্থলও হামলার বাইরে থাকছে না, ফলে নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হচ্ছে।
মানবিক সংস্থাগুলো বারবার বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে আসলেও গাজায় সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন করে প্রাণহানি, আহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের খবর সামনে আসছে।
সূত্র: আল-জাজিরা।