মালয়েশিয়া সরকার নিজস্ব শরণার্থী নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেশজুড়ে থাকা ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোর বাসিন্দাদের নিয়ে ডকুমেন পেনদাফতারান পেলারিয়ান (ডিপিপি) বা শরণার্থী নিবন্ধন নথি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল জানিয়েছেন, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে প্রায় ২১ হাজার অভিবাসী রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ব্যক্তি নিজেদের শরণার্থী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃতপক্ষে কারা শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য, সে সিদ্ধান্ত নেবে মালয়েশিয়া সরকার।
শনিবার পেরাকের তানজুং পিয়ানদাংয়ে প্রিজনস ডিপার্টমেন্টের কমিউনিটি কারেকটিভ ক্যাম্পুং আংকাত মাদানি ও সেকোলাহ আংকাত মাদানি ২০২৬ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় ২১ হাজার ব্যক্তি ইমিগ্রেশন ডিপোতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় চার হাজার নিজেদের শরণার্থী দাবি করছেন। কিন্তু তারা সত্যিই শরণার্থী কি না, তা কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা নিরাপত্তা যাচাই করবে। সব ধরনের যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর মালয়েশিয়া সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে, কোনো ব্যক্তি শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য কি না।
সাইফুদ্দিন বলেন, সরকার আর শুধু জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্যের ওপর নির্ভর করতে চায় না। তাই নিজস্ব নিবন্ধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, বর্তমানে ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন। তবে সরকারের নিজস্ব তথ্যভান্ডার তৈরি হলে প্রত্যেকের নাম, ঠিকানা, বয়স, লিঙ্গ, দক্ষতা, বায়োমেট্রিক তথ্য, মুখাবয়ব ও আইরিস শনাক্তকরণসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন এমন একটি পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করছি, যা সরকারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বৈধ ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীরা কেবল অভিবাসন আইনের অধীনে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশে প্রবেশের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান।
তবে তারা মালয়েশিয়ার অন্যান্য ফৌজদারি আইন থেকে অব্যাহতি পান না। চুরি, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাইফুদ্দিন বলেন, কেউ ইউএনএইচসিআর কার্ডধারী হোন বা নতুন ডিপিপি নথি পান শরণার্থী সমস্যার সমাধানে তিনটি পথই বহাল থাকবে। এগুলো হলো, তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসন, নিজ দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন অথবা মালয়েশিয়ায় কোনো অপরাধে দণ্ডিত হলে সাজা শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।