মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের তাওয়াউ সেশনস আদালত নিজের জৈবিক মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণের দায়ে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ১০৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭০ বেত্রাঘাতের দণ্ড দিয়েছেন। আদালতে সাতটি ধর্ষণের অভিযোগ স্বীকার করার পর বিচারক আহমাদ ফাইজাধ ইয়াহইয়া তাৎক্ষণিকভাবে এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত একই সঙ্গে কারাভোগের পুরো সময় অভিযুক্তকে কাউন্সেলিং গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়া কারামুক্তির পর তাকে তিন বছর পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ কন্যাকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে তাওয়াউর বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে সাতবার ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৭৬(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। প্রতিটি অভিযোগের সাজা পৃথকভাবে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ সৃষ্টি করতেন। পরিবারের খরচ ও মেয়ের লেখাপড়ার জন্য নিজের ত্যাগের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাকে হোটেল বুক করতে বাধ্য করতেন। পরে নিজেই সেখানে গিয়ে ধর্ষণ করতেন। ভুক্তভোগী তদন্তকারীদের জানান, বাবার মানসিক প্রভাব ও চাপের কারণে তিনি তার নির্দেশ অমান্য করতে পারেননি।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত আগে থেকেই মেয়ের কর্মস্থলের ছুটির সময়সূচি সংগ্রহ করতেন। এরপর ছুটির দিনে হোটেল বুক করতে নির্দেশ দিতেন এবং লাহাদ দাতু থেকে তাওয়াউয়ে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটাতেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, এ ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ হাইকাল এমডি ইয়াতিন ও উইলদান ফিরদাউস আহমাদ ফাজলি আদালতকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন জানান। তারা বলেন, নিজের সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে যৌন নির্যাতন করা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ।
অন্যদিকে কোনো আইনজীবী ছাড়াই আত্মপক্ষ সমর্থন করা অভিযুক্ত আদালতের কাছে দয়া প্রার্থনা করে বলেন, তিনি লজ্জিত এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ চান। তাই শাস্তি কমানোর আবেদন জানান।
এটি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা নয়। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল লাহাদ দাতু সেশনস আদালত নিজের দুই মেয়েকে ধর্ষণের ১১টি অভিযোগে তাকে ১৬৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১১০ বেত্রাঘাতের দণ্ড দেন।
ওই মামলায় প্রমাণিত হয়, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে লাহাদ দাতুর বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ২৫ ও ২২ বছর বয়সী দুই মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছিলেন তিনি।