কুয়েতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিদেরও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দূতাবাসের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কুয়েত সরকার রাজধানীর হাসাবিয়া ও আব্বাসিয়া এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনগুলো খালি করছে। এসব ভবনে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ ভারত, পাকিস্তান, মিসর, নেপাল ও ফিলিপাইনের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য হাসাবিয়ার একটি সরকারি স্কুলে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ও কাউন্সেলর মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। প্রতিনিধি দলে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর শোয়াইব উল ইসলাম তরফদারও উপস্থিত ছিলেন।
দূতাবাস জানায়, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের জন্য কুয়েত কর্তৃপক্ষ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের ব্যবস্থা করেছে। একই সময়ে প্রতিনিধি দল কুয়েতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে চলমান অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের পাশাপাশি দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের আরও বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালানো হতে পারে।
আটকদের মধ্যে যাদের বৈধ বসবাসের কাগজপত্র রয়েছে, যাচাই শেষে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় বৈধ নথি না থাকা ব্যক্তিদের ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ দেশে পাঠানো হবে।
এদিকে যেসব ব্যক্তি বা পরিবার অভিযানের কারণে বাসস্থান হারিয়েছেন, তারা বৈধ অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারলে সাময়িকভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারবেন। তবে সেখানে অবস্থানকালে কর্মস্থলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগের অনুমতি থাকবে না।
বাংলাদেশ দূতাবাস কুয়েতে অবস্থানরত সব বাংলাদেশিকে তাদের আবাসন ও বসবাসসংক্রান্ত কাগজপত্র হালনাগাদ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি বাইরে বের হওয়ার সময় সিভিল আইডি বা অন্য কোনো বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে চলমান অভিযানের সময় কোনো ধরনের জটিলতায় পড়তে না হয়।