সারা বিশ্বে যখন ফুটবল উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই ফুটবল তারকা মোহাম্মদ সালাহর দেশ মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তেহাদ’ আয়োজন করল এক প্রাণবন্ত ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রবাসী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা ‘মদিনাতুল বুহুস’ স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর গৌতম কুমার দে।
ফারাওদের ঐতিহাসিক ভূমিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই ফুটবল লড়াই ঘিরে স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। গ্যালারিতে দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালি, উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে মুখরিত পরিবেশ যেন ক্ষণিকের জন্য প্রবাসের মাটিতে সৃষ্টি করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।
৮ জুলাই শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় দুই শক্তিশালী দল-‘লায়ন্স অব আজহার’ ও ‘ব্লু লক’। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে লড়াই জমে ওঠে। চমৎকার পাসিং, নিখুঁত কৌশল এবং দুই গোলরক্ষকের অসাধারণ নৈপুণ্যে নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ গোলে সমতায় শেষ হয়।
এরপর শিরোপা নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়ামে নেমে আসে টানটান উত্তেজনা। টাইব্রেকারে দুর্দান্ত লড়াই শেষে লায়ন্স অব আজহারকে পরাজিত করে কাঙ্ক্ষিত ট্রফি লুফে নেয় “ব্লু লক”। দলের বিজয় নিশ্চিত হতেই মাঠজুড়ে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস। খেলা শেষে প্রধান অতিথি কাউন্সিলর গৌতম কুমার দে বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন। এ সময় তিনি বলেন,আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষে এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন তাদের মানসিক প্রশান্তি ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে দারুণ ভূমিকা রাখবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।”
ভবিষ্যতেও এ ধরনের ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
টুর্নামেন্ট শেষে আয়োজক সংগঠন ‘ইত্তেহাদ’ শিরোপাজয়ী ব্লু লক দলকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি রানার্সআপ লায়ন্স অব আজহারের চমৎকার খেলোয়াড়সুলভ আচরণের প্রশংসা করে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।