স্পেনের বার্সেলোনা শহরে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাংলার মেলা-২০২৬। ১১ জুলাই (শনিবার) সকাল থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বাংলা গান, লোকজ সংস্কৃতি, দেশীয় খাবারের ঘ্রাণ এবং প্রিয়জনদের মিলনমেলায় মুখর ছিল শহরের প্রাণকেন্দ্র রামলা দেল রাভাল (Rambla del Raval)।
মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সালমা, কিশোর ও সাথী খান।
প্রবাসজীবনের ব্যস্ততাকে ছাপিয়ে এক টুকরো বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে এই মিলনমেলায় অংশ নেন প্রায় সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি।

বার্সেলোনায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশি সংগঠন এসোসিয়েশন কুলতুরাল ই উমানিতারিয়া দে বাংলাদেশ এন কাতালুনিয়া।
সন্ধ্যা ৮টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্সেলোনায় বাংলাদেশের অনারারি কনসাল সিনিয়র রামন পেদ্রো বেরনাউস।
মিরন নাজমুলের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় সংগঠনের সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ দুলাল, প্রধান উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জাফার হোসাইনকে।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের কংগ্রেস সদস্য ও বার্সেলোনার মেয়র পদপ্রার্থী জেরার্দো পিসারেলো, বার্সেলোনার সিউতাত ভেয়ার প্রেসিডেন্সির উপদেষ্টা কাউন্সিলর দাভিদ পেকেনিও, বার্সেলোনার সিউতাত ভেয়া জেলার কাউন্সিলর আলবের্তো আলভারেজ, নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক এনজিও ACESOP-এর প্রেসিডেন্ট ড. উমা জামশেদ (বার্সেলোনা), পুলিশের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা।
রাত ৯টা থেকে মাসুদা পারভীন মুন্নি, তাইফা রহমান ও নিগার সুলতানার উপস্থাপনায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব।
এ পর্বে ছিল ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, আধুনিক গান, নৃত্য, আবৃত্তি, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা এবং দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর নানা আয়োজন। বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও স্পেনে বসবাসরত শিল্পীরা অংশ নেন।
বার্সেলোনার শিল্পীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন দিবা, রাজু, তন্ময়, প্রমি, বর্ষা, শামীম ও জয়।
এ ছাড়া বার্সেলোনায় বেড়ে ওঠা শিশু ও কিশোর শিল্পীদের মধ্যে নৃত্য পরিবেশন করেন আলবিনা, উপমা, আমিমা, সারা, তুবা, নীলা, নীলিমা, তানিশা ও সায়েবা। কৌতুক পরিবেশন করেন পান্না।
মেলায় ছিলো বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল। বিরিয়ানি, ভর্তা, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সুস্বাদু দেশি খাবার ছিলো দর্শনার্থীদের জন্য।
মেলা শেষে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছরের মতো এবারও ‘বাংলার মেলা-২০২৬’ প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য শুধু একটি উৎসব নয়; বরং শিকড়ের টানে, সংস্কৃতির বন্ধনে এবং পারস্পরিক মিলনমেলার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।