সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইসলামপুর ((ব্রাহ্মণগাঁও) গ্রামে সালিশি বৈঠক চলাকালে কুখ্যাত ‘নজরুল ডাকাত বাহিনী’র সশস্ত্র হামলার মামলায় দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ৩ জুন সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা আদালত মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত হুসাইন আহমদ ও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অভিযুক্তরা হলেন—ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে হুসাইন আহমদ এবং মৃত আম্বর উল্লাহর ছেলে দেলোয়ার হোসেন।
*ঘটনার বিবরণ :*
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর জগন্নাথপুরের ৭নং সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের একটি মাদ্রাসা কক্ষে সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এক সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে দেশীয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকস্মিক হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
সশস্ত্র এই হামলায় অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আতাউর রহমান (পিতা: মফিজুল্লাহ) নামের এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত করলে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এছাড়া হামলায় বদর উদ্দিন (পিতা: একলাছুর রহমান), আইনুদ্দিন (পিতা: নুর মিয়া) ও আব্দুল হাসিমসহ আরও বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত আতাউর রহমানসহ কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৈঠক বানচালের নেপথ্যে ‘নজরুল সিন্ডিকেট’
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে কোনো সালিশি বা গ্রাম্য বৈঠক অনুষ্ঠিত না হওয়ায় বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তি হচ্ছিল না। ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গত বছরের ৯ অক্টোবর গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী আবুল বশরের বাড়িতে একটি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এলাকার কুখ্যাত ‘নজরুল ডাকাত সিন্ডিকেটে’র সশস্ত্র সদস্যরা আবুল বশরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেই বৈঠকটি পণ্ড করে দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১১ অক্টোবর পুনরায় মাদ্রাসার কক্ষে বৈঠক বসলে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ‘নজরুল বাহিনী’র সদস্যরা এলাকায় জমি দখল, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গ্রামে নিয়মিত সালিশি বৈঠক চালু হলে তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা বৈঠক বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে এই সশস্ত্র মহড়া ও হামলা চালিয়েছে।
এলাকাবাসীর উদ্বেগ ও শাস্তি দাবি
স্থানীয়রা জানান, এর আগে এলাকার বিশিষ্টজন ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমানসহ অনেকেই গ্রামে শান্তি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একাধিকবার সালিশি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন; কিন্তু প্রতিবারই এই অপরাধী চক্রের কারণে তা ভেস্তে যায়।
আদালত কর্তৃক দুই আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও তাদের কারাগারে প্রেরণের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তবে এই নৃশংস হামলার মূল হোতাসহ ঘটনার সাথে জড়িত বাকি অপরাধীদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।