পর্তুগালে শ্রম আইন সংস্কারের প্রস্তাবকে ঘিরে দেশজুড়ে ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও শিল্পখাতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। রাজধানী লিসবন ও পোর্তোসহ বিভিন্ন শহরে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
দেশটির প্রধান শ্রমিক সংগঠন জেনারেল কনফেডারেশন অব পর্তুগিজ ওয়ার্কার্স (সিজিটিপি) দাবি করেছে, এই ধর্মঘটে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ছিল জোরালো। এর ফলে স্কুলগুলো বন্ধ রয়েছে এবং হাসপাতালগুলো ন্যূনতম পরিষেবা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা কম্বোইউস দি পর্তুগাল (সিপি), ফেরি অপারেটর ট্রান্সতেজো , মেট্রো পরিষেবা ও বিমান চলাচলেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
লিসবনের এবং পোর্তোর প্রধান সড়কগুলোতে সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে তুলনামূলক কম যান চলাচল ধর্মঘটের প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমমন্ত্রী মারিয়া দো রোসারিও পালমা রামালহো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তিনি জানান, “পর্তুগালের অধিকাংশ মানুষই কর্মরত। বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণ একেবারেই নগণ্য এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য। সরকারি খাতে, বিশেষ করে পরিবহন ও স্বাস্থ্যখাতে, জারি করা ন্যূনতম পরিষেবার মাধ্যমে পরিস্থিতি সাধারণত স্বাভাবিক রয়েছে।”
এদিকে, সিজিটিপি’র সাধারণ সম্পাদক তিয়াগো অলিভেইরা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত শ্রম প্যাকেজ শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তাঁর মতে, এটি কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা বাড়াবে, কাজের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণহীন করবে এবং ছাঁটাই সহজ করবে, পাশাপাশি শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকারকেও সীমিত করতে পারে।
এটি শ্রম আইনের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে চলতি বছরে দ্বিতীয় সাধারণ ধর্মঘট। শ্রমিক সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে।