বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। রোববার তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ছিলেন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। এর মধ্যে চেয়ারম্যান জুবায়দুর রহমান অনলাইনে সভায় অংশ নেওয়ার শর্তে দীর্ঘ ছুটিতে বিদেশে যান। একই সময়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত এপ্রিল মাসে পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ ছুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
রোববার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে বৈঠকের আগে কিছু গ্রাহক ও কর্মকর্তা ব্যাংকের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা এমডি ওমর ফারুক খানকে দায়িত্বে রাখার দাবি জানান এবং চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চান।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এম জুবায়দুর রহমান। একই সঙ্গে ছুটিতে থাকা এমডি ওমর ফারুক খানও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ব্যাংকসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও নির্ধারিত বোর্ড সভা বাতিল হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও এমডির বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকটির পরিচালনায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়।
ব্যাংকটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছরের ব্যবধানে মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার অংশীদারিও কমে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির বিপুল পরিমাণ শেয়ার এস আলম গ্রুপের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জব্দ রয়েছে।