ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে-এর বাকি অংশের নির্মাণকাজ প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার র্যাম্প পর্যন্ত অংশ চালু থাকলেও টোলপ্লাজায় যানজটের কারণে অনেক চালক এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
চীনা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে নির্মিত এই পিপিপি প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী, চালুর পর প্রথম ২৫ বছর প্রতিদিনের প্রথম ৮০ হাজার গাড়ির টোল পাবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। এর বেশি যানবাহন চলাচল করলে অতিরিক্ত আয়ের ২৫ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র তিন দিন ৮০ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করেছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত অংশ চালু করা হয়। পরে ২০২৪ সালে এফডিসি গেট সংলগ্ন কারওয়ান বাজার র্যাম্প চালু হয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল রাজধানীর যানজট কমানো এবং দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা।
এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে টোলপ্লাজায় ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু হলেও এখনও বেশিরভাগ টোল আদায় হচ্ছে হাতে-কলমে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজারের কিছু বেশি ইটিসি ডিভাইস বিক্রি হয়েছে।
সেতু বিভাগ-এর সচিব মো. আবদুর রউফ জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫৫ থেকে ৬০ হাজার গাড়ি চলাচল করছে। তার আশা, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে যানবাহনের সংখ্যা এবং সরকারের আয়— দুটোই বাড়বে।
এছাড়া মূল নকশার বাইরে গিয়ে আরও চারটি নতুন র্যাম্প যুক্ত করার সম্ভাবনাও যাচাই করছে সেতু বিভাগ। বিশেষ করে ৩০০ ফিট সড়ক, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও মগবাজার এলাকার সঙ্গে সংযোগ উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, মূল নকশায় পরিবর্তন আনলে প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় দুটোই বাড়তে পারে। একইসঙ্গে নিচের সড়ক ও নতুন র্যাম্পগুলো অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারবে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।