গাজাগামী মানবিক সহায়তা বহরে থাকা দুই পর্তুগিজ চিকিৎসককে আটক করার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পর্তুগাল সরকার। একই সঙ্গে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের আচরণকে “অগ্রহণযোগ্য ও মানবিক মর্যাদাবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গাজাগামী “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মীদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। বিশেষ করে আটককৃত ব্যক্তিদের হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে বসিয়ে রাখার দৃশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ঘটনার পর লিসবনে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। সেখানে আটক পর্তুগিজ নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পর্তুগিজ সরকার জানিয়েছে, আটক দুই চিকিৎসকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে বহরের কয়েকজন আন্দোলনকারীকে হাত বাঁধা অবস্থায় হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওটিতে মন্ত্রীকে বিভিন্ন মন্তব্য ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের উস্কানি দিতেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর ইউরোপের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং একাধিক সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির পরিপন্থী এবং যুদ্ধকালীন মানবিক নীতিমালারও লঙ্ঘন।
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহায়তা বহরগুলোকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন করে কূটনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের সম্পর্কেও নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।