সিলেট টেস্টে পাকিস্তানের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তুলে সফরকারীদের জয়ের জন্য ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে স্বাগতিকরা। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির নেই।
বর্তমানে টেস্টে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের দখলে। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল ক্যারিবিয়ানরা। অন্যদিকে পাকিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ৩৭৭, যা তারা ২০১৫ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গড়েছিল। ফলে সিলেটে জিততে হলে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়তেই হবে শান মাসুদের দলকে।
১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। তবে দিনের শুরুতেই ফিরে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর লিটন দাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিকুর রহিম। দুজনের ব্যাটে দ্রুত বাড়তে থাকে বাংলাদেশের লিড।
লিটন দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেন। প্রথম ইনিংসে তার ১২৬ রানের ইনিংস বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। এই টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানও করেন তিনি।
তবে দিনের সবচেয়ে বড় আলো ছিলেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার দুর্দান্ত ধৈর্য আর নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি। ২৩৩ বলে ১৩৭ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও একটি ছক্কা। এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও হয়েছেন তিনি।
শেষদিকে তাইজুল ইসলাম ২২ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ১২ ও তাসকিন আহমেদ ৬ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন খুররম শাহজাদ।
দিনের শেষভাগে অল্প সময় ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায় পাকিস্তান। তবে দুই ওপেনার আজান ওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল রান তুলতে পারেননি। তৃতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ উইকেটহীন শূন্য রান।
এর আগে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে সিলেট টেস্টেও দাপট ধরে রেখে পাকিস্তানকে ধবলধোলাইয়ের পথে এগিয়ে রয়েছে টাইগাররা।