বাংলাদেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, টিকা সরবরাহে বিলম্ব হলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথা সরকারকে আগেই জানানো হয়েছিল।
ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে পাঠানো এক চিঠিতে দেশের টিকা সংকটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। সেখানে হাম-রুবেলা, পোলিও, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া এবং বিসিজি টিকার সরবরাহ ঘাটতির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
রোববার এক প্রতিক্রিয়ায় ইউনিসেফ বাংলাদেশ জানায়, শুধু চিঠি নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠকেও টিকার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি, রোগ বিস্তার এবং শিশু মৃত্যুর সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। পরে এসব বৈঠকের ফলোআপ হিসেবেও দাপ্তরিক যোগাযোগ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, আগে সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা সংগ্রহ করলেও ২০২৫ সালে সেই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের আওতায় আনা হয়। এই পরিবর্তনের কারণেই টিকা সরবরাহে বিলম্ব তৈরি হয়েছে বলে দাবি ইউনিসেফের।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার মেয়াদ ফেব্রুয়ারির শুরুতেই শেষ হয়ে যায়। পাশাপাশি পোলিও, টিডি এবং বিসিজি টিকার মজুদও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছিল, টিকা সরবরাহ ব্যাহত হলে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং প্রতিরোধযোগ্য রোগের সংক্রমণ বাড়বে।
এরই মধ্যে দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে কয়েকশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
ইউনিসেফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে জরুরি ভিত্তিতে সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি এবং অন্যান্য অংশীদারদের সহায়তায় হাম প্রতিরোধ কর্মসূচি শুরু করা হয়। গত ৫ এপ্রিল ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় টিকাদান অভিযান শুরু হয়, যা পরে জাতীয় কর্মসূচিতে রূপ নেয়। প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচি ১০ মে নাগাদ প্রায় শতভাগ বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছায়।
সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমান সরকার আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে টিকা সরবরাহে বিলম্ব না হয়।
ইউনিসেফের মতে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহে সাধারণত আট থেকে ১১ মাস সময় লাগে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বজায় রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।