স্পেনে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সেবা প্রদান করছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। ডেপুটি সেক্রেটারি কাজী আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ কার্যক্রমের মাধ্যমে বার্সেলোনা ও মাদ্রিদে হাজারো প্রবাসী এই সেবা গ্রহণ করছেন।
সেবার পরিসংখ্যান ও কার্যক্রম
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্যক্রমের প্রথম ধাপে বার্সেলোনায় ৯ থেকে ১১ মে পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক প্রবাসী সেবা গ্রহণ করেছেন। এরপর ১২ ও ১৩ মে মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আরও ৮২৬ জন প্রবাসীকে সেবা প্রদান করা হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই কার্যক্রম চলছে।
প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরোপের মধ্যে স্পেনেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের সরাসরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন অনলাইন আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই শেষে তাৎক্ষণিকভাবে সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো সার্টিফিকেটের ভুল সংশোধন এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা অফলাইন আবেদনগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়া
গত ১২ মে (মঙ্গলবার) মাদ্রিদস্থ দূতাবাস হলরুমে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ (এনডিসি)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেন বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির, সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন শাকিলসহ স্থানীয় কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।
কমিউনিটি নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘সময়োপযোগী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সেবা সহজ হওয়ায় স্পেনে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতা পাওয়ার পথ আরও সুগম হলো। তারা এই মহতী উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ সমন্বয়কারীসহ স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান।
প্রেক্ষাপট: স্পেনে সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচি
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্পেন সরকার দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ লাখ নথিহীন অভিবাসীদের বৈধতা দিতে একটি ‘সাধারণ ক্ষমা’ কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট একটি অপরিহার্য নথি। স্পেনপ্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে সঠিক সময়ে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন, মূলত সেই লক্ষ্যেই সরকার এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ সেবা কার্যক্রম চালু করেছে।