বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এক ক্রিকেটার, ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তা ও মালিকপক্ষের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিবি।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে জুয়া, দুর্নীতির প্রস্তাব, তথ্য গোপন, তদন্তে অসহযোগিতা এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তটি পরিচালিত হয় ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া বিপিএলের দ্বাদশ আসরকে কেন্দ্র করে।
নিষিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। তার বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধির ২.২.১ ধারা অনুযায়ী, ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে বাজি ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন দলটির ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী।
এ ছাড়া টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন এবং যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও।
বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্তদের সবাইকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ নেই। তবে অভিযোগপত্র পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে।
পৃথক আরেক তদন্তে সামিনুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিসিবি। বোর্ডের তথ্যমতে, বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে জুয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড, ক্রিকেটারদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর সামিনুর রহমান নিজের জবাব দেওয়ার অধিকার ছেড়ে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা মেনে নিয়েছেন।