দেশে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক মৃত্যুর ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৫০ দিনে এ রোগে মৃতের সংখ্যা ৩১১ জনে পৌঁছেছে।
নতুন করে মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ১৫ জনের ক্ষেত্রে হামের উপসর্গ ছিল, আর দু’জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে সরাসরি হাম শনাক্ত করা হয়েছে। সামগ্রিক হিসেবে এখন পর্যন্ত ২৫৯ জন শিশু উপসর্গজনিত কারণে এবং ৫২ জন নিশ্চিতভাবে হামে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, একদিনের ব্যবধানে বিপুলসংখ্যক শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩০২ শিশুর মধ্যে এই উপসর্গ দেখা গেছে, যার বড় অংশই ঢাকা বিভাগে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বেশিরভাগই ঢাকা বিভাগে, যেখানে ১২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বাকি পাঁচটি মৃত্যু ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে।
এই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজারের বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে একই সময়ে চিকিৎসা শেষে অনেক শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।