২০১৮ সালে জাপানি নাগরিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক পলাতক ব্যক্তি দীর্ঘ সাত বছর ভুয়া পরিচয়ে আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে মালয়েশিয়ায় শনাক্ত হয়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২৪ এপ্রিল, মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মিয়ানমারের নাগরিক পরিচয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। এর আগে মাদক ও অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধে তাকে রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে, তিনি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত এবং জাপানি কর্তৃপক্ষের কাছে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
পরে আলোর সেটার আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত তাকে মাদক সেবনের অপরাধে ১২ মাস, মাদক রাখার অপরাধে ১০ মাস এবং অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনের জন্য আরও ৮ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে।
কারাদণ্ড ভোগ শেষে তাকে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যাতে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। বিশেষ কৌশলগত দল এর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপো থেকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত তাকে স্থানান্তর করা হয়।
কেএলআইএ-তে পৌঁছানোর পর তাকে অস্থায়ীভাবে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয় এবং পরে টার্মিনাল ১-এ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় পাসতাক, পিডিআরএম এবং ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম অফিসার সদস্যরা তাকে পাহারা দেন।
পরবর্তীতে বিমানের ভেতরেই উপস্থিত জাপানি পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে হস্তান্তর করা হয়, যাতে তাকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া যায়।
মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, এই সফল অভিযান প্রমাণ করে যে দেশটি কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক অপরাধীদের আশ্রয়স্থল নয়। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন, পিডিআরএম, ইন্টারপোল এবং জাপানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতার কার্যকারিতাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।