মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। এনবিসি নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘোষিত তথ্যের তুলনায় বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি গুরুতর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট সংঘাতের পর পাল্টা হামলায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানে।
সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, অন্তত সাতটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। এতে অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা, কমান্ড কেন্দ্র, বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামো এবং রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া একাধিক যুদ্ধবিমান ও গুরুত্বপূর্ণ গুদামঘরও হামলায় ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এই ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
একইভাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড-ও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে কিছু আইনপ্রণেতা পেন্টাগনের এই নীরবতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, বারবার তথ্য চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো প্রতিপক্ষের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বজায় রাখা কতটা যৌক্তিক—এই প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
তারা মনে করছেন, বিপুল অর্থনৈতিক ব্যয় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির কৌশল পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে।