পর্তুগালের প্রধান শ্রমিক সংগঠন ইউজিটি (জেনারেল ইউনিয়ন অফ ওয়ার্কার্স) সরকারের পেশ করা শ্রম আইন সংস্কারের খসড়া সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউনিয়নটি বলেছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও প্রস্তাবটি এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যেখানে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা সম্ভব।
লিসবনে গত বৃহস্পতিবার ইউজিটি-র জাতীয় সচিবালয়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লুসা-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ছিল সরকারের শ্রম আইনে সংশোধনী প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইউজিটি-র আনুষ্ঠানিক অবস্থান, তবে ইউনিয়ন আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলেছে।
ইউজিটি-র সাধারণ সম্পাদক মারিও মৌরাও সাংবাদিকদের জানান, ইউনিয়ন “সর্বদা প্রস্তুত” নতুন প্রস্তাব নিয়ে কথা বলতে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে বর্তমান খসড়ায় তাদের মূল আপত্তিগুলো দূর হয়নি।
সরকারের অবস্থান
প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো বলেছেন, সামাজিক সংলাপের মাধ্যমে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব—এই আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক কারণে এই সমঝোতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, তবে সরকার আলোচনায় থাকতে চায়।
সরকারের অবস্থান হলো, শ্রমবাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও কার্যকর করতে সংস্কার জরুরি। তবে বিরোধীরা এবং ইউনিয়নগুলো বলছে, এই সংস্কার শ্রমিক অধিকার কমিয়ে দিতে পারে।
আপত্তির মূল বিষয়
ইউজিটি বলছে, তাদের জন্য কয়েকটি “লাল রেখা” অতিক্রম করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে আউটসোর্সিং, টাইম ব্যাংক, নিরবচ্ছিন্ন কাজের সময়সূচী, স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ এবং বেআইনি বরখাস্তের ক্ষেত্রে পুনর্বহাল না করার মতো বিষয়।
সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো শ্রম সম্পর্ককে আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করে তুলতে পারে এবং কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। এ কারণেই তারা প্রস্তাবটিকে বর্তমান অবস্থায় সমর্থন করেনি।
রাষ্ট্রপতির ভূমিকা
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি আগেই জানিয়েছিলেন, সামাজিক সংলাপে চুক্তি না হলে তিনি প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কারে ভেটো দিতে পারেন। তিনি সংলাপের পথ বন্ধ না রাখার আহ্বানও জানান, যা দেখায় যে বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে আরও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে।