ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে গেছে। তবে একই সময়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়ায় এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্ববাজারে স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪৭৫৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সঙ্গে রুপা ও প্যালাডিয়ামের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
আগের দিনের কিছু পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর বাজারে আবারও গতি ফিরে আসে। তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর কথা জানান।
তবে এই ঘোষণা একতরফা হওয়ায় ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমায় মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আবারও সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে দামের ওঠানামা থাকলেও সোনার দাম শিগগিরই নতুন রেকর্ডে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার মনে করেন, সংঘাত কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখন ঝুঁকি কমাতে ডলার ও সোনার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।