রাজধানীর পল্লবী এলাকায় একা বসবাসকারী এক স্কুলশিক্ষিকাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত—নিহতের মুঠিবদ্ধ হাতে পাওয়া লম্বা কালো চুল।
নিহত ফিরোজা খানম জোসনা (৬৮) নামের ওই শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাসা থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়ি ও রক্তমাখা ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
ফরেনসিক পরীক্ষায় চুল, সন্দেহের তালিকায় ঘনিষ্ঠরা
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহতের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরা থাকা চুলটি হত্যাকারীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া ও সাবলেট বাসিন্দাদের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
চুরি বা ডাকাতির কোনো আলামত না থাকায় তদন্তকারীরা মনে করছেন, পরিচিত কারও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।
পল্লবীর ডি ব্লকের একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন ফিরোজা খানম। তিন কক্ষের ফ্ল্যাটের দুটি কক্ষ সাবলেট দিয়ে নিজে একা থাকতেন তিনি।
বাড়ির দারোয়ান জানান, নিহতের ব্যবহৃত নম্বরে যোগাযোগ না পেয়ে এক ভাড়াটিয়া বাসা দেখতে এসে বিষয়টি জানান। পরে দরজা খোলা অবস্থায় ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে Dhaka Metropolitan Police ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ফ্ল্যাটের সাবলেট বাসিন্দা মুন্সি রাজু আহমেদ দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। ঢাকায় ফেরার পথে ফোনে হত্যার খবর পান বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরোজা খানম আগে একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। করোনাকালে চাকরি ছেড়ে টিউশনি শুরু করেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি খুব বেশি কিছু প্রকাশ করতেন না। পরিবার থেকেও ছিলেন অনেকটা বিচ্ছিন্ন।
সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাথা ও মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া গলায় ফিতার মতো কিছু জড়ানোর আলামতও মিলেছে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা হাতুড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে নিহতের হাতে পাওয়া চুলের নমুনাকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।