জাতিসংঘ স্বাধীন খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ চলছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, “২২ মাসের অব্যাহত সংঘাতের পর গাজা উপত্যকায় পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যা ক্ষুধা, অভাব-অনটন ও মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি দ্বারা চিহ্নিত।”
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে উত্তর গাজা এবং বিশেষত গাজা সিটিতে, যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বসবাস করে। এই এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মধ্যভাগ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং দুর্ভিক্ষ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও ছড়িয়ে পড়বে।
গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ হয়েছে। তার কারণ, ২০ শতাংশের বেশি পরিবার খাদ্যের কোনো প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩০ শতাংশের বেশি মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে, অনাহার বা সম্পর্কিত রোগে দৈনিক মৃত্যুর হার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।
এ পরিস্থিতি শিশুদের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনছে। ইতিমধ্যেই শতাধিক শিশু অপুষ্টিজনিত কারণে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পাঁচ বছরের নিচে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে যদি অবিলম্বে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা না পৌঁছে।
জাতিসংঘের সংস্থা যেমন ইউনিসেফ, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ও এফএও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে দ্রুত সম্পদ সংগ্রহ, মানবিক করিডর উন্মুক্ত করা এবং টেকসই সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করতে। “দুর্ভিক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার অপেক্ষা না করে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত,” মানবিক কার্যক্রমের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন।
তবে সহায়তা পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। মানবিক সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে খাদ্য, ওষুধ এবং জ্বালানির নিয়মিত প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হচ্ছে, যা ইতিমধ্যেই ‘অসহনীয়’ বলে চিহ্নিত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।