অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত আরও কঠোর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে “সিভিক কালচার” বা নাগরিক সংস্কৃতি বিষয়ক একটি পরীক্ষা।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ফিনিশ সমাজ, রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে জ্ঞান মূল্যায়নের জন্য এই পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরীক্ষাটি ফিনল্যান্ডের দুটি সরকারি ভাষা ফিনিশ বা সুইডিশ এর যেকোনো একটিতে এই পরীক্ষা দিতে হবে। এতে দেশের আইন, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, সমতা, লিঙ্গসমতা, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে বিকল্প পথও রাখা হয়েছে। আবেদনকারীরা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা ফিনিশ কিংবা সুইডিশ ভাষায় উচ্চশিক্ষা ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাদের নাগরিক জ্ঞানের প্রমাণ দিতে পারবেন।
ফিনল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারি রান্তানেন বলেন, “নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না।” তিনি জানান, এই উদ্যোগ বৃহত্তর সংস্কারের অংশ, যার লক্ষ্য নাগরিকত্বের শর্ত আরও কঠোর করা।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশটির ডানপন্থী জোট সরকার অভিবাসন নীতিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। ইতোমধ্যে বসবাসের নির্ধারিত সময়সীমা, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্তগুলোও কঠোর করা হয়েছে।
প্রস্তাবটি সংসদে অনুমোদন পেলে আগামী বছর থেকেই নতুন এই পরীক্ষা কার্যকর হতে পারে।
এদিকে একই দিনে সরকার আরও একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যার লক্ষ্য বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া দ্রুততর করা। পাশাপাশি, জনশৃঙ্খলা বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আগাম দেশে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটছে। প্রতিবেশী সুইডেন ইতোমধ্যে নাগরিকত্ব পাওয়ার শর্ত কঠোর করতে অনুরূপ জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছে।