সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করাকে তিনি হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনও সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।
বক্তব্যে তিনি জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়। চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
দেশের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে, তবে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই।
বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করতে সরকার ইতোমধ্যে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নারীর নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও ‘জুলাই সনদ’-এর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং জনগণের সমর্থন নিয়েই তা পূরণ করা হবে।
বৈশ্বিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনগণের স্বার্থে সরকার এখনো মূল্য সমন্বয় করেনি; বরং ভর্তুকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
সবশেষে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলাদেশের অর্জন আন্তর্জাতিক পরিসরেও স্বীকৃতি পাবে।