মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী USS George H. W. Bush-সহ একটি নৌবহরে করে প্রায় ৬ হাজার মার্কিন সেনা বর্তমানে সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যেই তারা নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে থেকেই ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে শক্তিশালী দুই বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln এবং USS Gerald R. Ford। নতুন রণতরী পৌঁছালে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে, যা অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করবে।
এছাড়া, মাসের শেষ দিকে Boxer Amphibious Ready Group এবং ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের প্রায় ৪ হাজার ২০০ সেনা মধ্যপ্রাচ্যে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের পর এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বড় ধরনের সেনা সমাবেশ একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করবে, তেমনি সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নির্দেশ করে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত নৌ-অবরোধ এখন পুরোপুরি কার্যকর, যার ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, যা অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হতে পারে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।