মালয়েশিয়ায় মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, প্রোগ্রাম মিংগু সায়েন্স নেগারা ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন মন্ত্রী দাতুক চ্যাং লিহ কাং। তার বক্তব্যে তিনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্সের (এআই) গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর দ্রুত অগ্রগতি মানুষের কাজের ধরণ, যোগাযোগ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। ক্লড এবং চ্যাট জিপিটি -এর মতো প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন জেনারেটিভ এআই মডেল বর্তমানে প্রায় সব অর্থনৈতিক খাতে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তার মতে, এআই শুধু লেখালেখি, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ডিজাইনে সহায়তা করছে না, বরং দৈনন্দিন অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে তুলছে, যেগুলো আগে মানুষের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল ছিল এআই মানুষকে সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করে না। বরং এটি মানুষের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, প্রোগ্রাম মিংগু সায়েন্স নেগারা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
লিহ কাং আরও উল্লেখ করেন, প্রকৃত মূল্য এখনো মানুষের সৃজনশীলতা, নৈতিক বিবেচনা, সহমর্মিতা এবং জটিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার মধ্যেই নিহিত যা কোনো যন্ত্র দ্বারা পুরোপুরি প্রতিস্থাপনযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য কারণ প্রযুক্তিটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা এবং সমাজের মূল্যবোধ ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা মানুষের দায়িত্ব।
তার মতে, ভবিষ্যৎ আর মানুষ ও এআই-এর প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করবে না; বরং নির্ভর করবে কে এআই প্রযুক্তি দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারে তার ওপর।
যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এআইকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারবে, তারাই নতুন অর্থনীতির নেতৃত্ব দেবে, উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করবে এবং মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ এআইকে প্রত্যাখ্যান করা নয়; বরং জনগণকে প্রস্তুত করা, দক্ষ করে তোলা এবং প্রযুক্তিটি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম করে তোলা যাতে একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।