ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর রাজধানী তেহরানে আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির ফলে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইরান সাময়িকভাবে যুদ্ধ বন্ধে সম্মতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান যদি সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান স্থগিত করবে। এ অবস্থায় আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী সমন্বয় করবে।
এই সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি ট্রাম্পকে আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানান এবং ইরানকে প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের “বিজয়” হিসেবে তুলে ধরছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, আলোচনার জন্য তাদের যেসব শর্ত ছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিয়েছে। তারা মনে করছেন, জাতীয় ঐক্য, ধৈর্য এবং সামরিক সক্ষমতার কারণেই এই ফলাফল এসেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরুতে যে কৌশল ছিল—নেতৃত্ব পর্যায়ে হামলা চালিয়ে সরকারকে দুর্বল করা—তা সফল হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের সংঘাতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের “সম্পূর্ণ বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদও এই চুক্তির আওতায় নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আলোচনায় চীনের ভূমিকার কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
যুদ্ধবিরতির পর তেহরানের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো মানুষ। তারা পতাকা নেড়ে আনন্দ প্রকাশ করে। অনেকেই বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং সমাবেশ করে। কিছু জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পোড়ানোর ঘটনাও দেখা গেছে।
একইভাবে ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় মানুষ আনন্দ উদযাপন করেছে।