লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকালে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন একাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী। গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় করে যাত্রা করা এসব যাত্রীর মধ্যে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, যাদের সবাই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া কয়েকজনের বর্ণনা অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে তারা সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসতে থাকে। টানা কয়েকদিন খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে অনেকে মৃত্যুবরণ করেন এবং পরিস্থিতির চাপে তাদের মরদেহ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রিসে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি জানান, ২৭ মার্চ সমুদ্র থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের একটি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। সেখানে থাকা আহত ও অসুস্থদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়। দিরাই, দোয়ারাবাজার ও জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকজন তরুণ এই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, দালালের সঙ্গে বিপুল অর্থের চুক্তিতে তারা বিদেশযাত্রায় বের হন এবং লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর চুক্তির আংশিক অর্থও পরিশোধ করা হয়েছিল। কয়েকদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর স্বজনরা তাদের মৃত্যুর খবর পান।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলে জানা গেছে।