মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১০ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ৮৮ ডলারে দাঁড়ায়।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে “গভীর ও ফলপ্রসূ” আলোচনা হওয়ায় আপাতত পাঁচ দিনের জন্য হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। আলোচনার অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা হয়নি। এতে পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তেলের দাম কমার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রভাব দেখা গেছে। শেয়ারবাজারে শুরুতে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও পরে তা কিছুটা কমে আসে। একই সময়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে এবং ডলারের মানও কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ও ইরানের সংঘাতের কারণে চলতি মাসের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছিলেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হলেও চলমান অস্থিরতায় অনেক জাহাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
অন্যদিকে এই ঘোষণার পর ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারেও প্রভাব পড়ে। বিটকয়েনের দাম কয়েক শতাংশ বেড়ে যায়, পাশাপাশি অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রার দরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত বিশ্ব জ্বালানি ও আর্থিক বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।