বাংলাদেশে সরকারি হিসাব অনুযায়ী রমজান চলমান থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলার কিছু এলাকায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন একাংশ মুসল্লি। শুক্রবার সকালে এসব এলাকায় পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করা হয়।
এসব এলাকার মুসল্লিরা জানান, দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশীলন ও বিশ্বাসের ধারাবাহিকতায় তারা বিশ্বের অন্য প্রান্তে চাঁদ দেখার খবরের ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে থাকেন। অনেক জায়গায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ, কোলাকুলি এবং বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে উৎসব সম্পন্ন হয়।
চাঁদপুর:
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফসহ জেলার বহু গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন মসজিদ ও মাঠে মুসল্লিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় বাজারগুলোতেও ঈদ উপলক্ষে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।
বরিশাল:
নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় কয়েক হাজার পরিবার ঈদ উদযাপন করে। একাধিক মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন দরবার অনুসারীরা এতে অংশ নেন।
ফরিদপুর:
বোয়ালমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে সকাল থেকে ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মসজিদ ও মাঠে পর্যায়ক্রমে জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আশপাশের এলাকা থেকেও মুসল্লিরা অংশ নেন।
ভোলা:
পাঁচ উপজেলার একাধিক গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
লক্ষ্মীপুর:
রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় মাদ্রাসা ও ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নওগাঁ:
পত্নীতলা উপজেলার একটি এলাকায় সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে আশপাশের এলাকা থেকেও মুসল্লিরা অংশ নেন।
পটুয়াখালী:
দুমকী উপজেলার একটি গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারও আগাম ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়ভাবে ছোট পরিসরে আয়োজন করা হয়।
রাজশাহী:
পুঠিয়া উপজেলার একটি গ্রামে অল্পসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জামালপুর:
সরিষাবাড়ী, ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মুসল্লিদের একটি অংশ আগাম ঈদ পালন করেন। বিভিন্ন স্থানে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা ও গাইবান্ধা:
এই জেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামেও পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও মসজিদে, কোথাও খোলা মাঠে বা গ্রামীণ পরিবেশে জামাতের আয়োজন করা হয় এবং স্থানীয় মুসল্লিরা এতে অংশ নেন।
ঈদের নামাজ শেষে প্রায় সব এলাকাতেই দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।