ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১৯তম দিনে প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে তেল আবিবের আশপাশের এলাকায় হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ১৯২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা মাঝারি ধরনের গুরুতর হলেও অধিকাংশই তুলনামূলকভাবে সামান্য আহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মোট আহতের সংখ্যা তিন হাজার সাতশর বেশি বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা একটি জরুরি বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ হরমুজ প্রণালী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগও বাড়ছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে শিগগিরই আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আরও বড় অস্থিরতার সৃষ্টি করতে পারে।
হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল এমন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানির হত্যার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। দেশটির সেনাপ্রধান বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘উপযুক্ত সময়ে চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়া হবে।
সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির কাছেও ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদিও এতে কোনো অস্ট্রেলীয় সেনা আহত হয়নি।
এছাড়া ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও কুয়েতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার কিছু অংশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে।