সাভারের আশুলিয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে। এর আগে রোববার রাতে আশুলিয়া থানায় নিহতের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
নিহত শারমিন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে শারমিনকে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ও অচেতন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান তার স্বামী ফাহিম আল হাসান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
স্বামী ফাহিম আল হাসান দাবি করেন, বাইরে থেকে বাসায় ফিরে তিনি কক্ষের দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। পরে দরজা খুলে ভেতরে গিয়ে তিনি শারমিনকে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তার এই বক্তব্য সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামীকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হাওলাদার বলেন, নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় ফাহিম আল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শারমিনের মাথার ডান পাশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ভারী কোনো বস্তু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।