উত্তরাযতে এক রিক্সাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে জমজম টাওয়ার ও স্কয়ার মার্কেট সংলগ্ন এলাকা। নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এক পর্যায়ে চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা উত্তরার স্কয়ার মার্কেটে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। তিন তলা পর্যন্ত ভয়াবহ লুটপাট হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা মার্কেটের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং নিচতলা থেকে শুরু করে তিন তলা পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীরা দোকানের মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। মার্কেটের তিনটি ফ্লোরের প্রায় সব মালামালই এখন লুটপাটের শিকার। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে, নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ার কোনো সুযোগ পায়নি।
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বিপুল সংখ্যক উত্তেজিত মানুষের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও লুটপাট ও ভাঙচুর পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না। পুরো এলাকা এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে আশ্বস্ত করতে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বারবার আহ্বান জানালেও জনতা তা উপেক্ষা করে। এমপি জাহাঙ্গীর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও তার উপস্থিতিতেই তিন তলা পর্যন্ত লুটপাট ও অরাজকতা অব্যাহত থাকে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাতে চেষ্টা চালাচ্ছে।