জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান ও আইনের পথেই এগোতে হবে: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনা কোনো আবেগ বা অনুভূতির ওপর নির্ভর করে না; রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধান, আইন ও প্রতিষ্ঠিত নিয়মের ভিত্তিতে। সরকার ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই সনদ কার্যকর করতে হলে তা অবশ্যই সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই করতে হবে, কোনো অবৈধ বা আরোপিত নির্দেশের মাধ্যমে নয়।
রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে আলোচনা তুলতে হলে নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী নোটিশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সেই নিয়ম অনুসরণ করেছেন কি না।
বিরোধীদলীয় নেতার উপস্থাপিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, গত বছরের ১৩ নভেম্বর জারি করা ওই আদেশটি না কোনো অধ্যাদেশ, না কোনো আইন; ফলে এটি সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, এই আদেশকে ভিত্তি করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ বা রাষ্ট্রপতির কাছে সংসদ অধিবেশন আহ্বানের দাবি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের রায়কে সরকার সম্মান করে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটের প্রশ্নপত্রে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে যা মূল রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ ছিল না। চারটি ভিন্ন প্রশ্নের জন্য একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল, যা তিনি যৌক্তিক মনে করেন না।
গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই রায় কার্যকর করতে হলে প্রথমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই সংস্কার পরিষদের শপথসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
চলতি সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধিবেশনের প্রথম দিনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সামনে দীর্ঘ ছুটিও রয়েছে। এসব কারণে এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল আনার সুযোগ নাও থাকতে পারে।
তবে কার্যউপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান।
বক্তব্যের শেষদিকে বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্যউপদেষ্টা কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং এর প্রতিটি বিষয়কে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে বিল গ্রহণ করেই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।