রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ যাত্রী হয়রানি, চুরি ও চোরাচালানের ঘটনা কমছে না। নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অপরাধী চক্রগুলো এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করেও অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ মালামাল পাচার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাগেজ মেটাল ডিটেক্টর ও এক্স-রে মেশিনে স্ক্যান করার পরও লাগেজ অবশ্যই ম্যানুয়ালি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ভিআইপি ও ভিভিআইপি যাত্রীদের লাগেজ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অনুমতির তথ্য সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কোনো নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, যানবাহন ও পদচারণা টহল বাড়ানো এবং মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশি চালানোর কথাও বলা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরে কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অনুমোদিত যাত্রীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সংবেদনশীল এলাকা ও সীমানা প্রাচীর এলাকায় নিয়মিত নিরাপত্তা টহল বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও বিমানবন্দরে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা থামছে না। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করলেও নিরাপত্তার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন অপরাধী চক্র।
সূত্র জানায়, সোনা চোরাচালান থেকে শুরু করে লাগেজ চুরি পর্যন্ত নানা অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে। বিমানবন্দরের ক্যানোপি-১ ও ক্যানোপি-২ এলাকায় দালালদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে। বিদেশফেরত যাত্রীদের কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ট্যাক্সিতে তুলে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
এছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে সংঘবদ্ধ কিছু চক্র যাত্রীদের ট্রলি থেকে ব্যাগ সরিয়ে নেওয়া কিংবা মোবাইল ফোন চুরির মতো অপরাধও করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরে ডিজিটাল ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো অনেক ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল চেকিংয়ের ওপর নির্ভরতা রয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিচ্ছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।