পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের হাতের কিছু নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে সক্ষম একটি মস্তিষ্কের ইমপ্লান্টের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে চীন। এ ধরনের যন্ত্রের ক্ষেত্রে এটিই বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক অনুমোদন বলে জানা গেছে।
চীনের নিউরাকল মেডিক্যাল টেকনোলজি নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। এটি মূলত ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে এমন ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা মস্তিষ্কের সংকেত বুঝতে পারে। ফলে মানুষ শুধু চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার ব্যবহার করা বা কৃত্রিম হাত নড়ানোর মতো কাজ করতে পারে।
নিউরাকলের এই প্রযুক্তি মূলত ঘাড়ের স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাতের কারণে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের আঘাতে অনেক সময় মস্তিষ্ক থেকে হাতের দিকে স্নায়ু সংকেত পৌঁছাতে পারে না।
এই ব্যবস্থায় রোগীর মস্তিষ্কে হাত নড়ানোর ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেত শনাক্ত করা হয়। পরে সফটওয়্যার সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে একটি রোবটিক গ্লাভস বা বিশেষ দস্তানায় পাঠায়। দস্তানাটি বায়ুচাপের সাহায্যে হাত খোলা ও বন্ধ করতে সাহায্য করে, ফলে ব্যবহারকারী কিছু জিনিস ধরতে পারেন।
তবে সব রোগী এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবেন না। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সেই সব মানুষের জন্য তৈরি, যাদের পক্ষাঘাত এক বছরের বেশি সময় ধরে রয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস ধরে শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। এছাড়া যাদের হাতে শক্তভাবে কিছু ধরার ক্ষমতা নেই কিন্তু উপরের বাহু কিছুটা নড়াতে পারেন, তারাই এই প্রযুক্তির জন্য উপযুক্ত।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে চীন ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। দেশটি এই প্রযুক্তিকে জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাব্য চালিকাশক্তি হিসেবে পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশ্বজুড়েই এ ধরনের প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রতিযোগিতা চলছে। গত বছর চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সাংহাই নিউরোএক্সেস তৈরি করা একটি ব্রেন–কম্পিউটার ইন্টারফেস আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। সেখানে আট বছর ধরে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত এক ব্যক্তি ইমপ্লান্ট নেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই নিজের চিন্তার মাধ্যমে ডিজিটাল যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হন।
অন্যদিকে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক ২০২৬ সাল থেকে এই ধরনের মস্তিষ্ক ইমপ্লান্টের ব্যাপক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে গুরুতর পক্ষাঘাতে আক্রান্ত অন্তত ১২ জন ব্যক্তি এই ইমপ্লান্ট ব্যবহার করছেন এবং চিন্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল ও যান্ত্রিক যন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন।