ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন দেশ স্পেন, পর্তুগাল এবং গ্রিস ভ্রমণে যাওয়া ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলের সব বিমানবন্দরে নতুন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশের সময় নতুন এন্ট্রি এক্সিট সিস্টেম (ইইএস) চালু হবে। এই ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপে প্রবেশ করা ব্রিটিশ নাগরিকদের আঙুলের ছাপ ও মুখের ছবি দিতে হবে। এসব বায়োমেট্রিক তথ্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হবে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট অনেক সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন এই বায়োমেট্রিক পরীক্ষার কারণে নন-ইইউ যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় বিমানবন্দরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জানিয়েছে, নতুন এই পরীক্ষা ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে এবং ১০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে। সংস্থাটি ভ্রমণকারীদের সতর্ক করে বলেছে, প্রতিটি যাত্রীর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মিনিট বেশি সময় লাগতে পারে, তাই বিমানবন্দরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় অপেক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সম্প্রতি আরও একটি নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ব্রিটিশ নাগরিকরা যদি যুক্তরাজ্যে ফিরে আসেন, তাহলে তাদের অবশ্যই ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। অন্য পাসপোর্ট ব্যবহার করলে সীমান্তে তাদের প্রবেশে সমস্যা হতে পারে।
নতুন এই ইইএস ব্যবস্থা শেনজেন অঞ্চলের মোট ২৯টি দেশে চালু হবে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়েসহ আরও কয়েকটি দেশ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় দেশগুলোতে কে কখন প্রবেশ করছে এবং কতদিন অবস্থান করছে তা ডিজিটালি সংরক্ষণ করা হবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।