ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ সেয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনিকে দেশটির তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করেছে। ৫৬ বছর বয়সী এই আলেম প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ‘অসীম আনুগত্য’ প্রদর্শনের অঙ্গীকার করেছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা মোজতবা খামেনির সব নির্দেশনা পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে মেনে চলবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকবে। বাহিনীটি আরও বলেছে, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের মাধ্যমে এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে ইসলামি ব্যবস্থার অগ্রযাত্রা থেমে নেই এবং ব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়।
কেবল আইআরজিসি নয়, ইরানের সমগ্র সশস্ত্র বাহিনী নতুন নেতার প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য ঘোষণা করেছে। সেনাপ্রধানের কার্যালয় এবং খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগের তুলনায় আরও ‘শক্তিশালী, অবিচল এবং জিহাদি চেতনায় উজ্জীবিত’ হয়ে উঠবে। সামরিক বাহিনী তাঁকে ‘ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানবান, ধর্মনিষ্ঠ ও বিচক্ষণ’ নেতা হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ পরিষদের এই সিদ্ধান্ত তাদের বিচক্ষণতারও প্রমাণ বহন করে।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবর প্রকাশ করে। ওই হামলায় খামেনির পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হন বলে খবর এলেও, মোজতবা খামেনি ওই সময় হামলাস্থলে ছিলেন না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকা আলী খামেনির মৃত্যু এবং চলমান যুদ্ধে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
মোজতবা খামেনি আগে কখনো কোনো নির্বাচিত সরকারি পদে ছিলেন না এবং শীর্ষ পর্যায়ের মর্জাআ বা উচ্চতম ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবেও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা হতো না। তবু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে, বিশেষ করে আইআরজিসি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কিছু অংশে তাঁর প্রভাব ও যোগাযোগ নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। বিশ্লেষকদের মতে, বাবার পর ছেলের হাতে ক্ষমতা যাওয়ায় একদিকে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলেও, অন্যদিকে শিয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নে বিতর্ক নতুন করে উসকে উঠতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বও নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছে। তারা বলছে, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক চাপের এই সময়ে নতুন নেতৃত্বের প্রতি জাতীয় ঐক্য প্রদর্শনই ইরানের মূল শক্তি হবে।