ইরানের ত্রাণ সংস্থা ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সতর্ক করে বলেছে, রাজধানী তেহরানে শিগগিরই বিষাক্ত বৃষ্টি হতে পারে। ইসরায়েলের হামলায় তেল সংরক্ষণাগার ও তেল স্থাপনায় আগুন লাগার পর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া রাসায়নিক পদার্থ থেকে এই বৃষ্টি হলে মানুষের ত্বকে পোড়া সৃষ্টি এবং ফুসফুসের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।
রোববার ভোরে দেওয়া সতর্কবার্তায় সংস্থাটি তেহরানের বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এমনকি বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পরও বাইরে না যেতে বলা হয়েছে। কারণ গরম মাটিতে বা বিভিন্ন পৃষ্ঠে জমে থাকা অম্লীয় ক্ষুদ্র কণার বাষ্প বাতাসে মিশে গেলে বিষাক্ততার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুস ও ত্বকের রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নাগরিকদের খাবারের প্যাকেট ভালোভাবে মুছে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পাত্রের গায়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র অম্ল কণা খুলে দেওয়ার সময় খাবারের ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। পাশাপাশি সম্ভব হলে পানির পরিশোধন যন্ত্র বদলে ফেলতে বলা হয়েছে, কারণ বিষাক্ত পানি পুরোনো ছাঁকনি নষ্ট করে দিতে পারে।
গত রাতের বোমা হামলার পর তেহরানে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে। উত্তর-পশ্চিম তেহরানের শাহরান তেল ডিপোতে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং আকাশজুড়ে বিশাল ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখা যায়। অনেক জায়গায় জ্বলন্ত তেল নর্দমা পথে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো রাস্তা জুড়ে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। শহরের বাসিন্দারা বাতাসে তীব্র পোড়া গন্ধ থাকার অভিযোগও করেছেন।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে হামলা চালিয়েছে এবং তেহরানের তেল সংরক্ষণাগারেও আঘাত করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে আরও “অনেক চমক” থাকবে।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় কেশম দ্বীপের একটি লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ধরনের কেন্দ্র মরুভূমি অঞ্চলে পানীয় জলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সময়ে ইরানের হামলায় বাহরাইনের একটি লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্রে ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে।
সংঘাত শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলতে থাকে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ১,২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ শিশু ও প্রায় ২০০ নারী রয়েছেন। লেবাননে ৩০০-র বেশি এবং ইসরায়েলে প্রায় এক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়বে এবং তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বড় চাপের মধ্যে ফেলবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের ওপর হামলা চলতে থাকলে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর আক্রমণ আরও বাড়াতে পারে। তার ভাষায়, “আমাদের ওপর যত চাপ বাড়বে, আমাদের প্রতিক্রিয়াও তত শক্তিশালী হবে।”