ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) শনিবার জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এতে বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরসহ কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা লক্ষ্যবস্তুতেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ক্ষেপণাস্ত্রের অনেক অংশ আটকানো হয়েছে বা প্রতিরোধ করা হয়েছে, তবে বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটির কাছে বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও কিছু অঞ্চলে এলার্ট জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।
এই হামলা ইরানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ওই অপারেশনের উদ্দেশ্য ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করা বলে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, আর তেহরান তা তার জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখেছে।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কোনো রক্তচিহ্ন-ভিত্তিক “লাল রেখা” আর নেই; মার্কিন ও ইসরায়েলি সকল সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনা এখন থেকে তাদের জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
এ ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবে এবং অন্যান্য উপসাগরীয় রাজ্যগুলিতে বিস্ফোরণ ও এলার্ম সিস্টেম সক্রিয় হয়েছে, এবং বিভিন্ন দেশের আকাশপথ সাময়িক বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সরকারি সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলি ঘটনাটি “ক্ষিতিজ ছোঁয়া” পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার পূর্ববর্তী উত্তেজনার ধারাবাহিকতা।
এই হামলার ফলে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া, সহিংসতা বা কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে তা এখনও পরিষ্কার নয়, তবে এটি ইতোমধ্যেই অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।