যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময় পাল্টা হামলার আশঙ্কায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশেও বিস্ফোরণ ও সতর্ক সংকেত শোনা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আসন্ন হুমকি ঠেকাতে এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে রক্ষা করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য।
ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। পশ্চিমাঞ্চলের ইলাম প্রদেশসহ দেশের আরও কয়েকটি জায়গায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। তেহরানে মোবাইল নেটওয়ার্কও আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
একই সময় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার চেষ্টা চালানো হয়। দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কাতারে সতর্ক সংকেত বাজে এবং দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। বাহরাইন জানিয়েছে, সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি এবং কুয়েতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে কাতার, কুয়েত ও আমিরাত তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই হামলার “চূড়ান্ত ও কঠোর প্রতিশোধ” নেওয়া হবে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এখন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের “অস্তিত্বগত হুমকি” দূর করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
খবর অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকা। তবে তাকে আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই হামলার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে করা হচ্ছিল বলে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনাকে ভেস্তে দিতেই এই হামলা চালানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।