সুইডেনে দণ্ডিত অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম আরও কঠোর করতে নতুন আইন আনতে যাচ্ছে দেশটির ডানপন্থি নেতৃত্বাধীন সরকার। যে কোনো অপরাধে জরিমানার চেয়ে বেশি শাস্তি পেলে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিককে সাধারণ নীতির অংশ হিসেবেই দেশে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে এই আইনে।
বুধবার স্টকহোমে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিবাসন মন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল বলেন, সুইডেনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অপরাধ করা বিদেশিদের প্রতি ‘অতিরিক্ত সহনশীলতা’ দেখানো হয়েছে, যা বন্ধ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে গুরুতর মামলায় প্রসিকিউটর চাইলে নির্বাসনের আবেদন করতে পারেন, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়; নতুন বিল পাস হলে শাস্তি নির্ধারণের সময় প্রসিকিউটরের জন্য নির্বাসনের আবেদন করা আইনি বাধ্যবাধকতা হয়ে যাবে।
সুইডেন সরকার ধারণা করছে, এই আইন কার্যকর হলে প্রতি বছর বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত প্রায় তিন হাজার বিদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে, যা বর্তমান গড় সংখ্যার প্রায় ছয় গুণ। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৫০০ জনের মতো দণ্ডিত অভিবাসীকে সুইডেন থেকে বহিষ্কার করা হয়। প্রস্তাবিত বিলটি এখন প্রথমে সুইডেনের কাউন্সিল অন লেজিসলেশন (আইন পর্যালোচনা পরিষদ)–এর কাছে পাঠানো হবে, যেখানে আইনের খসড়া সাংবিধানিক ও আইনি দিক থেকে খতিয়ে দেখা হবে, এরপর তা পার্লামেন্টে তোলার কথা রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই আইন কার্যকর করা হতে পারে।
নর্ডিক এই দেশটি অন্তত এক দশক ধরে সংগঠিত সহিংস অপরাধ, বিশেষ করে মাদকবাজার ও এলাকা দখলকে ঘিরে গ্যাং সংঘাতের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সরকারি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই সময়ে মারাত্মক গুলিবর্ষণের ঘটনা কিছু ক্ষেত্রে কমলেও বোমা হামলা ও বিস্ফোরণকেন্দ্রিক অপরাধ বেড়েছে, যা জননিরাপত্তার জন্য নতুন ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২২ সালে অতি-ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসনের জোট সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই লক্ষ্যে পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া, কঠোর শাস্তিমূলক বিধান প্রণয়ন এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ন্যূনতম বয়স ১৫ থেকে কমিয়ে ১৩ বছরে নামানোর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা শিশু অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
সরকারি শিবিরের যুক্তি, বিদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততা থাকা সংগঠিত অপরাধ ও গ্যাং-সহিংসতাকে লাগাম টানতে অভিবাসন নীতি ও ফৌজদারি আইন—দু’দিকেই একসঙ্গে কড়াকড়ি আনা জরুরি। অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে সুইডেনে বসবাসরত অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের আশঙ্কা বাড়বে, যদিও সরকার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, দেশটির নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এটি ‘প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিনের বিলম্বিত’ সংস্কার।