আজ শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষ একটি বিশেষ করে তীব্র ও ব্যাপক সামরিক অভিযানে রূপ নিয়েছে। ইসলামাবাদ থেকে সেনা প্রশাসনের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী “অপারেশন গাজাব লিল হক” নামে বিরোধী জঙ্গি ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তারা দাবি করেছে যে ২৭৪ জন আফগান তালেবান (বা সংশ্লিষ্ট শক্তি) যোদ্ধা মারা গেছে এবং ৪০০‑এরও বেশি আহত হয়েছে, পাশাপাশি ৭৩টি পোস্ট ধ্বংস ও ১৮টি পোস্ট দখল করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১১৫টি ট্যাঙ্ক, বর্মীকরণকৃত যানবাহন ও আর্টিলারি পিসগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাকিস্তানী পক্ষ আরও বলেছে যে ১২ জন পাকিস্তানি সেনাও নিহত হয়েছে ও অনেকে আহত হয়েছে। এই তথ্য সেনা মুখপাত্রের আজ দুপুরে দেওয়া ব্রিফিং থেকে এসেছে।

সংহার বস্তুতে পাকিস্তান বলছে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে “অন্যদেশের ভূখণ্ড থেকে হওয়া আগ্রাসনের” জবাব হিসেবে, যেখানে তারা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোকে নিশানা করেছে এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি এসেছে যে পাকিস্তানের হামলায় শহর ও বেসামরিক লোকজনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং সাধারণ মানুষ, শিশু ও নারীর মতো নিরীহ লোকজনও হতাহত হয়েছে। তাদের মতে সীমান্তজুড়ে শরণার্থী শিবিরগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরাপত্তা খোঁজে লোকেরা আশ্রয় খুঁজছে। আফগান প্রতিনিধিরা পাকিস্তানের এই আচরণকে “অবৈধ ও একতরফা আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে।

বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপট অনুসারে, সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমশ বেড়ে এসেছে। পূর্বের বিচ্ছিন্ন বিবাদ, ছোট ছোট গুলিবর্ষণ ও সীমান্ত উত্তেজনা এখন পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানে রূপ নিয়েছে, যেখানে ইসলামাবাদ “উন্মুক্ত যুদ্ধ” বা বৃহত্তর সামরিক উত্তেজনা ঘোষণা করেছে বলে আভাস দিয়েছে। আফগান প্রশাসন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যেই পরিস্থিতি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানাচ্ছে, কারণ দীর্ঘকাল ধরে নীরব সীমান্ত টানাপোড়েনই এই উত্তেজনার মূল সূত্র বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সীমান্ত উত্তেজনা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে; রাশিয়া ও চীন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে, এবং বিভিন্ন পক্ষ শান্তি উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করছে।
এই সংঘাত এখন শুধু সীমান্ত অঞ্চলের লড়াই নয়—এটি মূল শহরগুলিও প্রভাবিত করছে এবং আরও বড় আকারে সহিংসতা সৃষ্টি করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যা দ্রুত শান্তি উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি তীব্র করছে।
সংবাদ সূত্র- এপি নিউজ, আল জাজিরা, বিবিসি নিউজ, দ্যা গার্ডিয়ান।