রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধন করা হয়েছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনের পরপরই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়।
এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা কেবল উৎসবের আয়োজন নয়, বরং শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে এটিকে গড়ে তুলতে হবে।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে এবারের আয়োজন। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকেই প্রবেশ করা যাবে। নিরাপত্তার কারণে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।
মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন এলাকায় ‘লিটল ম্যাগাজিন চত্বর’-এ স্থান পেয়েছে ৮৭টি স্টল।
শিশুদের জন্য থাকছে আলাদা শিশু চত্বর, যেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ শিশুপ্রহর। এছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
মেলাকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বইমেলা তরুণদের বইমুখী করবে এবং জ্ঞানভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।