এক সময় তারল্য সংকট ও আস্থাহীনতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি গত দেড় বছরে আমানত ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিয়েছে। ব্যাংকটির নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আর্থিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর জোর দেওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০২৪ সালের আগে ব্যাংকটি বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ, তারল্য ঘাটতি এবং আমানতকারীদের আস্থাহীনতার মুখে পড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও বোর্ড পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থাপনা দায়িত্ব নেয়। এরপর শাখাভিত্তিক গ্রাহক সংলাপ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ঋণ অনুমোদনে কঠোরতা আরোপ করা হয়।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রথম দশ মাসে নিট আমানতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। প্রবাসী আয় আহরণেও ব্যাংকটি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
আগে যেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তার ওপর নির্ভরতা ছিল, বর্তমানে ব্যাংকটি সিআরআর ও এসএলআর ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার দাবি করছে। আন্তঃব্যাংক বাজারেও সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন ব্যবস্থাপনা বড় করপোরেট ঋণের ঝুঁকি কমিয়ে এসএমই ও তৃণমূল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছে।
ব্যাংকটির মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা আধুনিকায়ন করা হয়েছে। অধিকাংশ লেনদেন এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করা যাচ্ছে, যা গ্রাহকসেবায় গতি এনেছে।
তবে অতীতের বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার উন্নত করতে কৌশলগত বিনিয়োগ ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ব্যাংকটি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে পারবে। এই পুনরুদ্ধার কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ঘুরে দাঁড়ানো নয়, বরং দেশের আর্থিক খাতে আস্থা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।