চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে নূরজাহান আক্তার রানী (৪০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল, তবে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান বলে চিকিৎসকেরা জানান। তার শরীর শতভাগ পুড়ে গিয়েছিল।
সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে গুরুতর দগ্ধ ৯ জনকে বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকায় আনা হয়। হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, নিহত রানী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারান এবং বাকি আহতদের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে। সেহরির সময় হালিশহরের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের পর দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা একে একে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ মোট ৯ জন দগ্ধ হন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্যারেজ ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ও পাখি আক্তারের শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। তাদের ছেলে শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশ, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। প্রবাসী সামির আহমেদের ৪৫ শতাংশ, শিশু আয়েশার ৪৫ শতাংশ, আনাছের ৩০ শতাংশ এবং শিপন হোসেনের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
জানা গেছে, সাখাওয়াত হোসেন প্রায় দেড় বছর আগে পরিবার নিয়ে ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি তার ছোট ভাই চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ বেড়াতে এলে সবাই একসঙ্গে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। চুলায় আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো ফ্ল্যাটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে যায়।
দগ্ধদের উন্নত চিকিৎসা চলছে ঢাকায়, তবে তাদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।