প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০দিনের মধ্যে চুক্তি করতে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “চুক্তি হলে ভালো, না হলে খুব খারাপ কিছু ঘটবে,” যা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, এ অঞ্চলে এখন দুইটি বিমানবাহী রণতরি গ্রুপ, একাধিক ডেস্ট্রয়ার, ক্রুজার ও সাবমেরিনসহ ৫০-এর বেশি যুদ্ধবিমান (এফ-৩৫, এফ-২২, এফ-১৬ সহ) মোতায়েন হয়েছে, সঙ্গে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ও বি-২ স্টিলথ বোমার। এছাড়া গত মাসে প্যাট্রিয়ট ও থাড মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন ঘাঁটিতে স্থাপিত হয়েছে, যা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। এসব ঘাঁটিতে ৩০-৪০ হাজার সেনা অবস্থান করছেন, যা গত জানুয়ারির ইরানি বিক্ষোভের সময়ের দুর্বলতা দূর করেছে।
গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানি মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ বৈঠকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফের মধ্যে “গাইডিং প্রিন্সিপালস” নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে ঘোষণা করা হয়। তবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমাবদ্ধতা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিস্তারিত বিতর্ক এখনও অমীমাংসিত।
বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র পেলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি অসম্ভব,” এবং ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল জানিয়ে দেবেন। গত বছর জুনের ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধে মার্কিন হামলায় কয়েকটি পরমাণু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এখনকার উত্তেজনার পটভূমি।
ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, তার পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ; তবে ইউএনকে জানিয়েছে যেকোনো হামলার “সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া” দেবে। জনস হপকিনসের ভালি নাসর বলছেন, কূটনীতি চলাকালীন উভয় পক্ষই সময় কিনছে, কিন্তু হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় মূল্য দিতে হবে। রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ যুদ্ধ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে চারটি হামলা বিকল্প উপস্থাপন করেছেন ইসরায়েলি নেতৃত্বাধীন থেকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ অভিযান পর্যন্ত। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যুদ্ধপ্রস্তুতির জন্য। তাঁরা চান, হামলা করে ইরানকে আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা যাক।
সৌদি, তুরস্কসহ আরব দেশগুলো মধ্যস্থতা করছে, যুদ্ধ হলে তেলমূল্য ও অর্থনীতিতে বিপর্যয় ঘটবে বলে আশঙ্কা করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সীমিত হামলা থেকে দ্রুত বড় যুদ্ধে রূপান্তর হতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ডেকে আনবে।