পর্তুগালের জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএনই)এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতি কর্মীর গড় মোট স্থূল মাসিক বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯৪ ইউরোতে। ২০২৪ সালের তুলনায় এই বৃদ্ধি ৯০ ইউরো, যা নামমাত্র হিসেবে ৫.৬ শতাংশের উত্থান এবং এতে মূল বেতনের সঙ্গে খাবার ভাতা ও ওভারটাইম ভাতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগের বছর ২০২৪ এ নামমাত্র বেতন বেড়েছিল প্রায় ৬.৩ থেকে ৬.৫ শতাংশ, ফলে ২০২৫ সালের এই বৃদ্ধিকে অনেক অর্থনীতিবিদ আগের বছরের তুলনায় এক ধরনের ধীরগতি বা বেতন বৃদ্ধির “কুলিং–ডাউন” হিসেবে দেখছেন।
২০২৫ সালে পর্তুগালে বার্ষিক গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল প্রায় ২.৩ শতাংশ, যা হিসাব থেকে বাদ দিলে গড় বেতনের প্রকৃত (রিয়াল) বৃদ্ধি দাঁড়ায় ৩.২ শতাংশে। আইএনই এর এই হিসাব অনুসারে, ধারাবাহিকভাবে তৃতীয় বছরের মতোই কর্মীদের গড় ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও, বৃদ্ধির হার ২০২৩ ও ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, নামমাত্র বেতন কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু খাদ্যদ্রব্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের প্রকৃত স্বস্তি খুব বেশি আসেনি।
সরকারি বিবৃতি ও আইএনই এর বিশ্লেষণ দেখায়, কৃষি ও পশুপালন, বন ও মৎস্য, পর্যটন নির্ভর সেবা এবং নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট ও কর্মী ধরে রাখার প্রয়োজনের কারণে বেতন বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, এই সব খাতে নামমাত্র বেতন বৃদ্ধির হার অনেক ক্ষেত্রে দুই অঙ্কের কোটায় পৌঁছেছে, যা সামগ্রিক গড় বেতন বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সম্পর্কিত খাত, কিছু পরিবহন সেবা এবং শিল্পকলা ও বিনোদন–খাতে বেতন বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি পূরণের মতো পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে এসব খাতে কর্মীদের বাস্তব আয় প্রায় স্থির রয়েছে বা খুব সামান্য বেড়েছে।
অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সরকারি খাতে গড় মোট বেতন ছিল প্রায় ২,২৪৪ ইউরো, যেখানে বেসরকারি খাতে গড় বেতন ১,৪৮৩ ইউরোর মতো, অর্থাৎ সরকারি খাতে গড় আয় অনেক বেশি। সরকারি কর্মীদের বেতন নামমাত্র হিসেবে প্রায় ৬.৩ শতাংশ এবং বাস্তব অর্থে ৩.৯ শতাংশ বেড়েছে, আর বেসরকারি খাতে এই হার যথাক্রমে ৫.৪ ও ৩.০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। ফলে তুলনামূলকভাবে কম আয়ের অনেক কর্মী বেসরকারি খাতে কাজ করায়, আয়–বৈষম্য ও জীবনযাত্রার মানের পার্থক্য স্পষ্ট রয়ে গেছে।
আইএনই ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নির্দেশ করে, ২০২২ সালের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ এই তিন বছরে পর্তুগালে গড় প্রকৃত বেতন সামগ্রিকভাবে বাড়েছে। তবে ২০২৫ সালে নামমাত্র ও বাস্তব বেতন বৃদ্ধির হার আগের বছরের তুলনায় কমে যাওয়ায়, বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে আগামী বছরগুলোতে বেতন বৃদ্ধি আরও ধীর হতে পারে, বিশেষ করে যখন মুদ্রাস্ফীতি হার ২ শতাংশের কাছাকাছি স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবু সরকারের বক্তব্য, নিম্ন বেতন খাতে তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধি এবং টানা কয়েক বছর ধরে প্রকৃত বেতন ইতিবাচক থাকায়, শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার পাশাপাশি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে অন্তত স্বল্পমেয়াদে কিছু সুরক্ষা তৈরি হয়েছে।